নির্বাচন কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায় আবারও আইনি বাধা! তৃণমূলের আবেদন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট – এবেলা

নির্বাচন কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায় আবারও আইনি বাধা! তৃণমূলের আবেদন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রথম দফার ভোট মেটার পর দ্বিতীয় দফার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজ্যে আবারও উত্তপ্ত ‘ট্রাবল মেকার’ বা গোলমাল সৃষ্টিকারীদের তালিকা বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন নতুন করে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ায় পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগে এই আইনি লড়াই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

আদালতের আগের নির্দেশ ও নতুন বিতর্ক

এর আগে শাসক দলের প্রায় ৮০০ কর্মীকে ‘ট্রাবল মেকার’ হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করার আশঙ্কায় সরব হয়েছিল রাজ্য। সেই সময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, সুনির্দিষ্ট কোনো আইন বা অপরাধের রেকর্ড ছাড়া কাউকে ঢালাওভাবে চিহ্নিত করা প্রাথমিক ভুল এবং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা কোনোভাবেই সীমাহীন নয়। আদালতের সেই নির্দেশের পর আগের তালিকাটি আইনি ভিত্তিহীন বলে বাতিল হয়ে যায়। তবে রাজ্যের অভিযোগ, পুরনো তালিকা খারিজ হওয়ার পরেও কমিশন আবারও ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আদালতের অবমাননার সামিল।

প্রভাব ও আইনি লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, যেখানে উচ্চ আদালত আগের তালিকা বাতিল করেছে, সেখানে কমিশন কোন অধিকারে পুনরায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছে? অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানালেও রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পাল্টা দাবি করেছেন যে, অনুমানের ভিত্তিতে কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধরপাকড় শুরু করেছে এবং ১৫০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে আইনি খাঁড়া নেমে আসলে ভোটের ময়দানে শাসক দলের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • নির্বাচন কমিশনের ৩৫০ জনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকার বিরুদ্ধে ফের কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি পেল তৃণমূল।
  • আদালতের আগের নির্দেশে এই ধরণের তালিকা বাতিল হওয়া সত্ত্বেও কেন নতুন পদক্ষেপ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কমিশন, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান।
  • হাইকোর্টের আসন্ন রায়ের ওপরই নির্ভর করছে অভিযুক্ত কর্মীদের নাগরিক স্বাধীনতা ও ভোটের ময়দানে তাঁদের উপস্থিতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *