‘ভবানীপুরে হেরে গেছেন মমতা!’ ১৬৩ ধারা অমান্যের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন শুভেন্দু

‘ভবানীপুরে হেরে গেছেন মমতা!’ ১৬৩ ধারা অমান্যের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভবানীপুর। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং জনবল নিয়ে ঘোরাঘুরিকে কেন্দ্র করে কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষ সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন বুথে বুথে ঘুরছেন। বিরোধী দলনেতার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই আসনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং জনমানসে প্রভাব ফেলতেই এই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংঘাত

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, গেরুয়া শিবির বিভিন্ন জায়গায় পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোট লুঠের চেষ্টা করছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হচ্ছে। গণতন্ত্রের উৎসবে বিজেপি বাধা সৃষ্টি করছে বলে দাবি করে তিনি সাফ জানান, সাধারণ মানুষ ভয় না পেয়ে বুথ আগলে রাখবেন। মূলত দক্ষিণবঙ্গের এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাদানুবাদ ভোটের পরিবেশকে সরগরম করে তুলেছে।

নির্বাচনী সমীকরণ ও চূড়ান্ত লড়াই

২০২৬-এর এই নির্বাচনে ভবানীপুর আসনটি দুই শিবিরের জন্যই মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র মমতার দখলে থাকলেও, ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের প্রেক্ষাপটে এবার শুভেন্দু অধিকারীর চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২৯৪টি আসনের মধ্যে দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের দুর্গ ধরে রাখতে মরিয়া শাসক দল, অন্যদিকে সেই দুর্গে ফাটল ধরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি।

এক ঝলকে

  • ভবানীপুরে ১৬৩ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর।
  • পাল্টা হিংসা ও ভোট লুঠের চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিজেপির সমালোচনা মমতার।
  • শেষ দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লড়াই।
  • ভবানীপুর আসনে ১৫ বছরের আধিপত্য বজায় রাখা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *