১৫ বছর ধরে মায়ের গর্ভে ছিল সন্তান, অস্ত্রোপচারের পর বের করা হলো পাথরের শিশু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নাগপুরের এক ৫২ বছর বয়সী মহিলার জীবনের এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিরল বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। গত ১০ বছর ধরে অসহ্য পেটে ব্যথা এবং অনবরত বমির সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন ওই মহিলা। একাধিক চিকিৎসককে দেখালেও সাধারণ অ্যাসিডিটি বা ব্যথার ওষুধ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে যন্ত্রণার সীমা ছাড়িয়ে গেলে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তিনি এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে গত ১৫ বছরের এক ভয়ঙ্কর সত্য।
ভুল গর্ভপাতের চরম পরিণতি
চিকিৎসা অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৫ বছর আগে ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন। কিন্তু পারিবারিক চাপে তিনি গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন। সেই সময় তিনি ভেবেছিলেন ভ্রুণটি শরীর থেকে অপসারিত হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ভ্রুণের একটি বড় অংশ জরায়ুর বাইরে শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সেই মৃত ভ্রুণটি মহিলার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করছিল এবং এটি চার ফুটের অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
বিরল লিথোপিডিয়ান রোগ
চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতি যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘লিথোপিডিয়ান’ বা ‘স্টোন বেবি’ নামে পরিচিত। যখন কোনো মৃত ভ্রুণ শরীর থেকে বের হতে পারে না, তখন সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে মায়ের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ভ্রুণের ওপর ক্যালসিয়ামের আস্তরণ তৈরি করে। অনেকটা প্রাচীন মিশরের মমির মতো মৃত দেহটি পাথরে পরিণত হয়ে ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে। বিশ্বে গত চারশ বছরে এই ধরনের মাত্র ৩০০টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা মহিলার পেট থেকে সেই পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রুণটি সফলভাবে বের করেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে ওই মহিলা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তবে এই ঘটনাটি গর্ভপাত পরবর্তী সময়ে সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব এবং বিরল শারীরিক জটিলতার ক্ষেত্রে সঠিক রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
এক ঝলকে
- নাগপুরের ৫২ বছর বয়সী মহিলার পেটে ১৫ বছর ধরে মৃত ভ্রুণ সংরক্ষিত ছিল।
- ভুল পদ্ধতিতে গর্ভপাতের কারণে ভ্রুণটি বের না হয়ে পাথরে পরিণত হয়েছিল।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে ‘লিথোপিডিয়ান’ বা স্টোন বেবি বলা হয়।
- দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে ওই মহিলা বিপন্মুক্ত ও সুস্থ আছেন।
