‘এখনও চেয়ারে আছি মনে রাখবেন’, ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার!

ভোটের ময়দানে মমতার তোপ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধর ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, গত রাত থেকেই সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে নারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে বাহিনী। তাঁর মতে, ডিউটির নামে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো আসলে আদালত অবমাননার শামিল।
আক্রমণের নিশানা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান যে, শুধুমাত্র ভবানীপুর নয় বরং আরামবাগ, খানাকুল এবং গোঘাটেও একই কায়দায় সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে গভীর রাতে তল্লাশি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করার বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা একে ‘গুন্ডারাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। বাহিনীর এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচন চললেও তিনি এখনো প্রশাসনিক প্রধানের পদে আসীন।
জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস
বাহিনী নিয়ে অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত। মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেওয়ার পর ‘ভিক্ট্রি সাইন’ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসই ফের ক্ষমতায় ফিরছে। তাঁর মতে, ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কর্মীদের দমানো যাবে না এবং কর্মীরা মৃত্যুবরণ করলেও কারও কাছে মাথা নত করবে না। বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান আদতে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
এক ঝলকে
- মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধর ও অত্যাচারের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ভবানীপুরসহ আরামবাগ ও গোঘাটের সাধারণ মানুষের ওপর বাহিনীর হেনস্তার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ।
- গভীর রাতে কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি ও পরিবারের সদস্যদের হুমকির বিষয়টিকে ‘গুন্ডারাজ’ বলে কটাক্ষ।
- দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন দলনেত্রী।
