গর্ভাবস্থায় ক্যান্সার হলেও কি জন্ম নেবে সুস্থ শিশু? দুশ্চিন্তা কাটিয়ে জেনে নিন আধুনিক চিকিৎসার দিশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গর্ভাবস্থা প্রতিটি নারীর জীবনে এক পরম আনন্দের সময় হলেও এই পর্যায়ে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের উপস্থিতি সেই আনন্দকে গভীর উদ্বেগে নিমজ্জিত করে। অনেক মায়ের মনেই বড় প্রশ্ন জাগে যে, এই রোগ কি তার অনাগত সন্তানের শরীরেও ছড়িয়ে পড়বে? তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, গর্ভাবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়া অত্যন্ত বিরল ও চ্যালেঞ্জিং ঘটনা হলেও সঠিক সচেতনতায় মা ও শিশু উভয়কেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
শিশু কি ঝুঁকিতে থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের শরীর থেকে ক্যান্সার সরাসরি ভ্রূণের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। তবে মায়ের শারীরিক অবস্থা খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়লে পরোক্ষভাবে শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয় বলে এই সময়ে থেরাপি বা ওষুধের প্রয়োগ নিয়ে চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। মা ও শিশুর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ড সম্মিলিতভাবে চিকিৎসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ন্যূনতম রাখা যায়।
সচেতনতা ও প্রতিকার
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ক্যান্সারের পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে সাফল্যের হার অনেক বেশি। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা পিণ্ড অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক থেরাপি এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে এই কঠিন যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে আধুনিক চিকিৎসার ওপর আস্থা রাখাই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার প্রধান চাবিকাঠি।
এক ঝলকে
- ক্যান্সার সাধারণত মায়ের শরীর থেকে সরাসরি শিশুর দেহে সংক্রমিত হয় না।
- গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং ক্যান্সারের পর্যায় বিচার করে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করেন।
- শরীরে কোনো অস্বাভাবিক ফোলা বা পিণ্ড দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- মানসিক প্রশান্তি ও সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে ক্যান্সারের মোকাবিলা করে সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব।
