চিকেন রান্না না করায় বিবাদ! স্বামীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল স্ত্রী, ক্ষণিকের উত্তেজনায় তছনছ হয়ে গেল পরিবার – এবেলা

চিকেন রান্না না করায় বিবাদ! স্বামীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল স্ত্রী, ক্ষণিকের উত্তেজনায় তছনছ হয়ে গেল পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায়, শুধুমাত্র একটি খাবারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এক তুচ্ছ বিবাদ কেড়ে নিল একটি প্রাণ। শনিবার গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে ঝগড়ার সূত্রপাত হয়েছিল—যার মূল কারণ ছিল স্ত্রীর মুরগির মাংস রান্না না করা—তা শেষ পর্যন্ত চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। আকস্মিক ক্রোধের বশে স্ত্রীর চালানো এক হামলায় একটি সাজানো-গোছানো পরিবার আজ তছনছ হয়ে গেছে।

ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি
ভাঙ্গারি বা পুরোনো সামগ্রীর ব্যবসা চালানো শিবাজি তার স্ত্রী লক্ষ্মীর সাথে ঝগড়া শুরু করেন, কারণ লক্ষ্মী রাতের খাবারের জন্য মুরগির মাংস রান্না করেননি। যদিও আত্মীয়স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে দম্পতিকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আত্মীয়রা চলে যাওয়ার পরপরই শিবাজি আবারও ঝগড়া উসকে দেন। যখন শিবাজি কেবল রান্নার বিষয় নয়, বরং সংসারের বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়েও লক্ষ্মীকে দোষারোপ করতে শুরু করেন, তখন লক্ষ্মী ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ফেলেন। তিনি ঘরে রাখা একটি দা হাতে তুলে নেন এবং শিবাজির ঘাড়ে সজোরে কোপ বসিয়ে দেন। অত্যধিক রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই শিবাজির মৃত্যু হয়।

তদন্ত ও পারিবারিক পটভূমি
ওই দম্পতির বিয়ের ছয় বছর অতিবাহিত হয়েছিল এবং তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে যে, বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের মধ্যে ঘনঘন ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত এবং বেশ কয়েকবার পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা এসে তাদের বিবাদ মিটমাট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শিবাজির ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে, অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও সেই ভয়াবহ পরিণতির এক নির্মম স্মারক হিসেবে সামনে এল, যা সামান্য অধৈর্য ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে করা কোনো কাজ থেকে সৃষ্টি হতে পারে।

এক নজরে

  • স্ত্রী লক্ষ্মী তার স্বামী শিবাজিকে দা দিয়ে আক্রমণ করেন, কারণ তিনি মুরগির মাংস রান্না করেননি। – ঘাড়ে গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই স্বামী শিবাজি মারা যান।
  • কামারেড্ডি পুলিশ অভিযুক্ত ওই নারীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
  • বাবার মৃত্যু এবং মায়ের কারাবাসের ফলে, ওই দম্পতির দুই শিশু কন্যা এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *