ছাত্র ভিসায় আমেরিকায় যাওয়া এক ভারতীয়র নৃশংসতা! তিন বছরের এক শিশুকে কামড়ে দেয় ও তার মাকে আক্রমণ করে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভিসা বাতিল হওয়ার পরও আমেরিকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী আথারভা ব্যাস (২৪) নামে এক ভারতীয় যুবকের বিরুদ্ধে সান আন্তোনিওর একটি পার্কে এক নারী ও তার তিন বছরের সন্তানকে নৃশংসভাবে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক কেবল ওই নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতই করেননি, বরং তার তিন বছরের শিশুকন্যাকে কামড়ে দিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। এই পৈশাচিক হামলায় শিশুটির মুখ ও শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তার দুটি দাঁত ভেঙে গেছে।
অপরাধের নেপথ্য ও পূর্ব ইতিহাস
তদন্তে জানা গেছে, আথারভা ব্যাস ২০২৩ সালে ছাত্র ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর মাত্র তিন মাস পরেই টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্য একটি হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। এর ফলে ২০২৫ সালে তার এফ-১ ভিসা বাতিল করা হয় এবং তিনি দেশটিতে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। গত ১৮ এপ্রিল পার্কের ওই হামলার ঘটনায় পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, ব্যাস প্রথমে ওই নারীর চুল ধরে টেনে আক্রমণ করেন এবং পরে তার কোল থেকে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে লক্ষ্য করে অমানবিক হিংস্রতা প্রদর্শন করেন।
প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপ
এই ঘটনা মার্কিন জননিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডিএইচএস-এর ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব লরেন বিস এই হামলাকে ‘প্রতিরোধযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং আগের অপরাধের পর কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে আইসিই ওই যুবকের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করেছে। মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাকে ভারত প্রত্যর্পণের জন্য সান আন্তোনিও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- ছাত্র ভিসায় আসা ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় যুবক আথারভা ব্যাস আমেরিকায় এক নারী ও তার ৩ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছেন।
- হামলায় শিশুটির শরীর কামড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘুষির আঘাতে তার দুটি দাঁত ভেঙে গেছে।
- অভিযুক্ত যুবক এর আগে ২০২৫ সালে ভিসা বাতিল হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে আমেরিকায় অবস্থান করছিলেন।
- মার্কিন প্রশাসন অপরাধীর কঠোর সাজা নিশ্চিত করে তাকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
