মাথায় তিলক কেন? সহকর্মীর হাতে হেনস্থা ও খুনের হুমকি, মধ্যপ্রদেশে জেলবন্দি মুবারক!

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলার নাগদা তহসিলে একটি গাড়ির শোরুমে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কপালে তিলক পরায় হৃতিক নামে এক মেকানিককে দীর্ঘ তিন মাস ধরে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তার সহকর্মী মুবারিক ওরফে লালার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি হৃতিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তিলক না মোছা হলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বিবাদের সূত্রপাত
ভুক্তভোগী হৃতিকের বয়ান অনুযায়ী, শোরুমের জলর মোটর চালানো নিয়ে সাধারণ তর্কের এক পর্যায়ে মুবারিক তার ধর্মীয় তিলক নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য শুরু করে। অভিযুক্ত দাবি করে যে, তিলক পরে কাজ করা যাবে না এবং ভবিষ্যতে তিলক পরে এলে তাকে চাকরি হারাতে হবে। হৃতিক একে নিজের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে উল্লেখ করলে মুবারিক তাকে বেল্ট দিয়ে পেটানো এবং খুনের হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই হৃতিক তার আত্মীয় ও বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় নাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু করেছে। নাগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমৃতলাল গবরি জানিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মুবারিককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- উজ্জয়িনীর নাগদা এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমে তিলক পরা নিয়ে দুই কর্মীর মধ্যে বিবাদ।
- তিলক পরার কারণে মেকানিক হৃতিককে দীর্ঘ তিন মাস ধরে মানসিক হেনস্তার অভিযোগ।
- অভিযুক্ত মুবারিক ভুক্তভোগীকে কাজ থেকে বের করে দেওয়া এবং খুনের হুমকি দেয়।
- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
