সিংঘমের নজরদারিতেও কি কারচুপি! দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ইভিএম কারচুপি ও ভোট লুটের অভিযোগে সরগরম রাজনৈতিক মহল। প্রথম দফায় কোনো পুনর্নির্বাচনের দাবি না উঠলেও, দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এই বুথগুলোর সিংহভাগই ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট এবং বজবজ এলাকার অন্তর্গত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ বৃহস্পতিবারই জরুরি বৈঠকে বসছেন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
কারচুপির অভিনব কৌশল ও অভিযোগ
এবারের নির্বাচনে কারচুপির ধরনে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ইভিএমের নির্দিষ্ট বোতামে টেপ মেরে রাখা হয়েছিল, কোথাও আবার সুগন্ধি আতর লাগিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে মগরাহাট পশ্চিম থেকে, যেখানে ভোটারের পকেটে স্পাই ক্যামেরা রাখার মাধ্যমে গোপনীয়তা ভঙ্গের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। সিসিটিভি ক্যামেরায় রুমাল চাপা দিয়ে বুথ দখলের মতো অভিযোগও জমা পড়েছে কমিশনে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রভাব
তৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি ‘সিংঘম’ নামেই পরিচিত। তাঁর কড়া নজরদারির পরেও এত সংখ্যক বুথে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি মূলত এই কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। কমিশনের বৈঠকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আগামী ১ মে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে ফের ভোটগ্রহণের নির্দেশ আসতে পারে।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচন চেয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে।
- ফলতায় সর্বোচ্চ ৩২টি এবং ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি বুথে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
- ইভিএমে টেপ লাগানো এবং ভোটারের পকেটে স্পাই ক্যামেরার মতো গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন।
- পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার নজরদারি চলাকালীন এই অভিযোগগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
