পুলিশের তাড়া খেয়ে চম্পট তৃণমূল কাউন্সিলরের! বুথের সামনে ৮০ জনের জটলা সরাতে ধুন্ধুমার বর্ধমানে

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হল নজিরবিহীন উত্তেজনা ও বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্য দিয়ে। বুধবার সকাল থেকেই বর্ধমান, ভাঙড়, যাদবপুর এবং নদিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ আসতে শুরু করে। সবথেকে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের গুড়পট্টি এলাকায়। সেখানে বিধি ভেঙে বুথের ৫০ মিটারের মধ্যে অনুগামীদের নিয়ে জমায়েত করার অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামাপ্রাসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশি তাড়া খেয়ে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়।
রণক্ষেত্র ভবানীপুর ও অশান্ত জেলা
কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল সমর্থকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কালীঘাটের জয়হিন্দ ভবনের সামনে দু-পক্ষের হাতাহাতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে যাদবপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়িতে ঢুকে ছাত্রকে মারধর এবং ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ায় দুষ্কৃতী হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদিয়ার চাপড়ায় বিজেপির পোলিং এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচন চলাকালীন এই ক্রমাগত অস্থিরতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, পুলিশ ও কমিশন বিজেপির স্বার্থে কাজ করছে। তবে বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিও এবং কমিশনের তৎপরতায় স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় দফাতেও বুথ স্তরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো মরিয়া ছিল। এই সংঘাতের ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকল, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে, যা আগামী দফার ভোটগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- বর্ধমান দক্ষিণে পুলিশি তাড়া খেয়ে অনুগামীসহ এলাকা ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর।
- ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ ও দু-পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের লাঠিচার্জ।
- ভাঙড়, যাদবপুর ও চাপড়ায় বিরোধী দলের এজেন্টদের মারধর এবং বুথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।
- অভিযোগ পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা।
