“প্রধানমন্ত্রী জাতিশুমারি এড়াতে চাইছেন!” মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ জয়রাম রমেশের

লোকসভা নির্বাচনের আবহে জাতিভিত্তিক জনগণনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালো কংগ্রেস। দলের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আদতে জাতি গণনা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিতে চাইছেন। গত এক বছরে এই ইস্যুতে সরকারের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে বলে দাবি করে একে প্রধানমন্ত্রীর ‘নাটকীয় ইউ-টার্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিরোধী শিবির।
সরকারের নীতির স্ববিরোধিতা ও বিতর্ক
কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কেন্দ্র একাধিকবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। একসময় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জাতি গণনাকে নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী বলা হলেও, পরবর্তীতে গত বছর ৩০ এপ্রিল হঠাৎই এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা করা হয়। জয়রাম রমেশের মতে, দীর্ঘ এক বছর অতিক্রান্ত হলেও এই গণনার রূপরেখা নিয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ বা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি, যা সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
‘আর্বান নকশাল’ মন্তব্য ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি
জাতি গণনার দাবিকে প্রধানমন্ত্রী অতীতে ‘আর্বান নকশাল’ চিন্তাধারার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যদি এখন নিজেই এই গণনা করতে চান, তবে আগের সেই মন্তব্যের জন্য তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বিষয়ে একাধিকবার চিঠি লিখলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে চাইছে কংগ্রেস।
এক ঝলকে
- জাতিভিত্তিক জনগণনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে কালক্ষেপণের অভিযোগ কংগ্রেসের।
- এক বছর আগে ঘোষণার পরেও গণনার পদ্ধতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি।
- অতীতে জাতি গণনার সমর্থকদের ‘আর্বান নকশাল’ বলায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করা হয়েছে।
- সরকারের অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্রের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো।
