“পাকিস্তান চাইলে দীর্ঘ লড়াইয়েও আমরা প্রস্তুত ছিলাম”, ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি রাজনাথ সিং-এর!

অপারেশন সিন্দুর শেষ হওয়ার এক বছর পূর্ণ হতে না হতেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার ‘এএনআই ন্যাশনাল সিকিউরিটি সামিট ২.০’-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট জানান যে, ভারত কোনো দুর্বলতা থেকে নয় বরং নিজস্ব শর্তে অপারেশন সিন্দুর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ভারত কেবল একটি সাময়িক অভিযানের জন্য নয়, বরং প্রয়োজনে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
অপারেশন সিন্দুর এবং ভারতের জিরো টলারেন্স নীতি
২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া এই অভিযান ছিল ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের একটি বড় মোড়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ভারত এখন আর কেবল বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতীয় সেনাবাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে সেই সব জঙ্গি আস্তানাগুলোকে ধ্বংস করেছে যেখান থেকে নাশকতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে সীমান্তে সুরক্ষাব্যবস্থা এখন অনেক বেশি সুসংহত।
সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার
রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হলে এর আদর্শিক এবং রাজনৈতিক শিকড় উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। পারমাণবিক হামলার হুমকিকে তোয়াক্কা না করে ভারত তার সামরিক শক্তি প্রদর্শনে পিছুপা হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যুদ্ধের সময় দ্রুত সম্পদ ও শক্তি বৃদ্ধির সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এক ঝলকে
- পহেলগাম হামলার জবাবে ২০২৫ সালের ৭ মে অপারেশন সিন্দুর শুরু করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।
- লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠীর ৯টি বড় ঘাঁটি ধ্বংস এবং ১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়।
- ভারত তার নিজস্ব শর্তে অভিযান থামিয়েছিল, যা কোনো চাপের মুখে নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না।
- পাকিস্তান থেকে আসা পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিকে ভারত গুরুত্ব দেয়নি এবং দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।
