ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র কলকাতা! তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের মাথা ফাটল, উত্তপ্ত বেহালা থেকে নিউ আলিপুর

ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র কলকাতা! তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের মাথা ফাটল, উত্তপ্ত বেহালা থেকে নিউ আলিপুর

দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ মিটে যাওয়ার পরেই চরম অশান্তি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। বেহালা পশ্চিমের ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে বসা কর্মীদের ওপর ইট ও বাঁশ নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। এই ঘটনায় ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস সহ মোট পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাহিনীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারধরের গুরুতর অভিযোগ

হিংসার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে নিউ আলিপুর এলাকাতেও। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি-র প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্থানীয় বস্তির ঘরে ঢুকে তৃণমূল কর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। এমনকি মহিলাদের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ও বেধড়ক মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিআরপিএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আহত ৯ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের টালিগঞ্জের বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যোধপুর পার্কেও তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করার খবর পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার তৃণমূল প্রার্থীরা। বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশিস কুমার এই আক্রমণকে বিজেপির পরাজয়ের ভয় এবং হতাশার প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন। দেবাশিস কুমারের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর ভয় দেখাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এক ঝলকে

  • বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডে হামলায় প্রাক্তন কাউন্সিলর সহ ৫ জন তৃণমূল কর্মী গুরুতর আহত।
  • নিউ আলিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ৯ জন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ।
  • পুলিশি অভিযানে অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে এই হামলা করিয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *