মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড, সময় নষ্টে কড়া শাস্তি! ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার একগুচ্ছ ‘বিস্ফোরক’ নিয়ম

মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড, সময় নষ্টে কড়া শাস্তি! ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার একগুচ্ছ ‘বিস্ফোরক’ নিয়ম

মাঠে খেলোয়াড়দের আচরণে স্বচ্ছতা আনতে এবং খেলার গতি বজায় রাখতে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিধিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনল ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় কোনো খেলোয়াড় হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। মূলত বর্ণবিদ্বেষী বা অপমানজনক মন্তব্য করে লিপ-রিডিং এড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলগতভাবে মাঠ ছাড়ার মতো ঘটনায় এখন থেকে সরাসরি বহিষ্কারের নিয়ম কার্যকর হবে।

হলুদ কার্ডে বড় স্বস্তি ও নক-আউট সমীকরণ

কঠোর শাস্তির পাশাপাশি ফুটবলারদের জন্য বড় স্বস্তির খবরও দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আসন্ন বিশ্বকাপে নক-আউট পর্বের শুরুতে এবং সেমিফাইনালের আগে পুরোনো হলুদ কার্ড মকুব করে দেওয়া হবে। এর ফলে গ্রুপ পর্বে একটি হলুদ কার্ড থাকলেও নক-আউটে তার প্রভাব পড়বে না। এমনকি সেমিফাইনালে কেউ হলুদ কার্ড পেলেও (যদি না সেটি লাল কার্ড হয়) ফাইনালে মাঠে নামতে পারবেন। টুর্নামেন্টের পরিধি এবং ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় তারকা খেলোয়াড়দের বড় ম্যাচে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে।

সময় অপচয় রোধে কঠোর নজরদারি

খেলার গতি বাড়াতে সময় নষ্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ফিফা। এখন থেকে থ্রো-ইন বা গোলকিক নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কাউন্টডাউন থাকবে, যা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে। সবচেয়ে চমকপ্রদ নিয়মটি এসেছে খেলোয়াড় বদলির ক্ষেত্রে। মাঠ ছাড়ার সময় কোনো খেলোয়াড় ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে তার দলকে পরবর্তী এক মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে। এই নিয়মের ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শৃঙ্খলার সঙ্গে বিনোদনের সমন্বয়

ফিফার এই পদক্ষেপের দ্বিমুখী প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাঠে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে কার্ড মকুবের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে ফাইনালে কোনো মহাতারকা স্রেফ কার্ডের কারণে দর্শক হয়ে না থাকেন। ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলা আর গতির মিশেলে ফুটবলের গুণগত মান বজায় রাখাই এখন ফিফার প্রধান লক্ষ্য।

এক ঝলকে

  • মুখ ঢেকে কথা বললে বা প্রতিপক্ষের সাথে তর্কে জড়ানো অবস্থায় মুখ লুকালে সরাসরি লাল কার্ড।
  • গ্রুপ পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ড মকুব হবে, ফলে সেমিফাইনালে কার্ড পেলেও ফাইনাল খেলা যাবে।
  • মাঠ ছাড়তে ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে সংশ্লিষ্ট দলকে ১ মিনিট ১০ জনে খেলতে হবে।
  • থ্রো-ইন ও গোলকিকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কাউন্টডাউন মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *