অমানবিকতার চরম সীমা! হাসপাতালের বারান্দায় মৃত সন্তানের দেহের পাশেই ঘুমিয়ে রইলেন মত্ত বাবা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের প্রধান সরকারি হাসপাতাল ‘দুন’ চত্বরে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল সাধারণ মানুষ। একদিকে যখন অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে মা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, ঠিক তখনই হাসপাতালের বারান্দায় নিজের মৃত সন্তানকে প্লাস্টিকের প্যাকেটে মুড়িয়ে তার পাশেই অঘোরে ঘুমিয়ে রইলেন জন্মদাতা পিতা। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে আসা এই পরিযায়ী শ্রমিকের এমন অমানবিক আচরণে স্তম্ভিত গোটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অব্যবস্থা নাকি চরম উদাসীনতা?
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে, যখন সহসপুর হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত এক গর্ভবতী মহিলার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সিজারিয়ান ডেলিভারির পর ওই মহিলা একটি মৃত পুত্র সন্তান প্রসব করেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রসূতিকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পর হাসপাতালের কর্মীরা নবজাতকের দেহটি তার পিতার হাতে তুলে দেন। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় ওই ব্যক্তি নেশায় এতটাই বুঁদ ছিলেন যে মৃত সন্তানের মর্যাদার কথা ভুলে গিয়ে দেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নিজের কাপড়ের পোটলার পাশে রেখে আইসিইউ-র বাইরে ঘুমিয়ে পড়েন।
হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুপুরের দিকে ডিউটিতে থাকা কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে বারান্দা থেকে সরানোর চেষ্টা করলে চরম সত্যটি প্রকাশ্যে আসে। লিফটে নিয়ে যাওয়ার সময় প্লাস্টিক থেকে সদ্যোজাতর পা বেরিয়ে আসতে দেখে উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা। দুন হাসপাতালের ডেপুটি এমএস ডঃ বিনম্র মিত্তল জানিয়েছেন, বাবার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা (নেশার কারণে) স্থিতিশীল না হওয়ায় মৃতদেহটি আপাতত মর্গে রাখা হয়েছে।
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই প্রসূতি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই ঘটনা হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মৃতদেহ হস্তান্তরের নিয়মাবলী নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই এক বাবার চরম সংবেদনশীলতাহীনতা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে নবজাতকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরাখণ্ডের দুন হাসপাতালে মৃত নবজাতকের দেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে তার পাশে মত্ত বাবার ঘুম।
- প্রসূতি মা বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউ-তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
- মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ।
- ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বাসিন্দা ওই শ্রমিকের বিরুদ্ধে চরম উদাসীনতার অভিযোগ।
