“ধর্ষিতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃত্ব”, ৩০ সপ্তাহের গর্ভপাতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল!

“ধর্ষিতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃত্ব”, ৩০ সপ্তাহের গর্ভপাতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল!

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ১৫ বছর বয়সী এক ধর্ষণ আক্রান্ত কিশোরীর ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা সমাপ্ত করার অনুমতি দিয়ে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে জানায় যে, এত দেরিতে গর্ভপাত করালে কিশোরীটি ভবিষ্যতে মা হওয়ার ক্ষমতা হারাতে পারে। তবে সর্বোচ্চ আদালত চিকিৎসকদের সেই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আইনি লড়াই

গত ২৪ এপ্রিল আদালত কিশোরীটির গর্ভপাতের অনুমতি দিলেও এমস কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখার আরজি জানায়। চিকিৎসকদের মতে, সাত মাসের বেশি সময়ের ভ্রূণ নষ্ট করা মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ৩০ এপ্রিল শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কোনো নাবালিকার ওপর জোরপূর্বক অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

আদালতের অবস্থান ও সামাজিক প্রভাব

আদালত এমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা কিশোরী ও তার অভিভাবককে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কিশোরীর পরিবারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিদের মতে, ধর্ষণের শিকার হওয়া একটি শিশুর সামাজিক সম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেওয়া তার জন্য আরও বেশি অবমাননাকর। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী গর্ভাবস্থা অবসানের ক্ষেত্রে আইনি পথ আরও প্রশস্ত হলো।

এক ঝলকে

  • ১৫ বছরের ধর্ষণ আক্রান্ত কিশোরীর ৩০ সপ্তাহের গর্ভপাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়।
  • ভবিষ্যতে মা হতে না পারার ঝুঁকি দেখিয়ে এমসের করা আপিল খারিজ করল আদালত।
  • অবাঞ্ছিত মাতৃত্ব চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কিশোরী ও তার পরিবারের ওপর ন্যস্ত রাখার নির্দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *