ভণ্ড বাবার ‘কালো খেলা’: জাদুটোনার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট, গ্রেফতার ‘টনটন বাবা’ ও তার শিষ্য!

মুম্বাই ও নবী মুম্বাই সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল একদল ভণ্ড সাধু। সম্প্রতি অশোক খরাত নামক এক ভণ্ড প্রতারকের কুকীর্তি ফাঁস হওয়ার পর একে একে সামনে আসছে আরও অনেক রোমহর্ষক ঘটনা। জাদুটোনা, পারিবারিক অশান্তি মুক্তি এবং শারীরিক সমস্যা সমাধানের মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্রটি। পুলিশি অভিযানে ‘টণটণ বাবা’ ও তার শিষ্যসহ একাধিক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভণ্ডামির বিচিত্র কৌশল ও প্রতারণা
চেম্বুর এলাকার দৌলত বাভিস্কর ওরফে ‘বেঙ্গলি বাবা’ এক অবিবাহিত যুবককে তাঁর স্ত্রীর করা জাদুটোনার ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করেন। এমনকি যৌন সমস্যা সমাধানের নামে যুবকের অন্তর্বাস চুরির মতো অদ্ভুত দাবিও করেন তিনি। পুলিশের তল্লাশিতে ওই ভণ্ড বাবার কাছ থেকে প্রায় দুশোটি অন্তর্বাস উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেলাপুরের এক নারীকে জীবননাশের ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় অর্জুন চ্যবন ও সাগর শিন্দে নামের দুই প্রতারক। তারা ‘টণটণ বাবা’র অনুসারী পরিচয়ে বিভিন্ন তান্ত্রিক ক্রিয়া বা অঘোরী পূজার নামে এই অর্থ আত্মসাৎ করে।
আইন ও সচেতনতার অভাব
মহারাষ্ট্রের অন্ধবিশ্বাস বিরোধী আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং মানুষের মনের অবদমিত ভয়ই এই ধরনের অপরাধীদের মূল অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত বেকারত্ব, প্রেমে ব্যর্থতা বা ব্যবসায়িক মন্দার সুযোগ নিয়ে এরা মানুষকে মারণভয় দেখাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে ভণ্ড সাধুদের গ্রেফতারের খবর দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। বেলাপুরের ওই নারী প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেই এনআরআই থানায় অভিযোগ করেন, যার ভিত্তিতে নাসিকের ঘোটী এলাকা থেকে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে সহকারী পরিদর্শক শচীন ঢাগের বিশেষ দল।
এক ঝলকে
- মুম্বাই ও নবী মুম্বাইয়ে জাদুটোনা ও তান্ত্রিক ক্রিয়ার নামে প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস।
- ‘টণটণ বাবা’র দুই শিষ্যসহ একাধিক ভণ্ড সাধুকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
- বেলাপুরের এক নারী ও মুম্বাইয়ের এক যুবকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
- পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক সরঞ্জাম ও তান্ত্রিক সামগ্রী উদ্ধার।
