না আমেরিকা-চীন না জার্মানি-জাপান! ভারত এই কাজ কীভাবে করল এই গতি দেখে সবাই অবাক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বড় বড় শক্তিধর দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়লেও ভারতের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে উল্টো সুরে। আমেরিকা, চীন, জার্মানি কিংবা জাপানের মতো দেশগুলো যখন মন্দা ও ধীরগতির মোকাবিলা করছে, ভারত তখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ভারত এই শীর্ষস্থান ধরে রাখবে, যা আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছে।
সংকট কাটিয়ে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানো
২০১৫ সালে চীনকে টপকে দ্রুততম অর্থনীতির তকমা পাওয়ার পর থেকে ভারতের এই যাত্রা শুরু। যদিও ২০১৯ সালের ব্যাংকিং সংকট এবং ২০২০ সালের করোনা মহামারিতে ভারতের জিডিপি বড় ধাক্কা খেয়েছিল, তবে পরবর্তী অর্থবছরেই ৮.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশটি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের প্রসার, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) নিয়ম শিথিল করা এবং জিএসটি-র মতো বড় ধরনের কর সংস্কার ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি বিনিয়োগের পথও প্রশস্ত হয়েছে।
বৈশ্বিক মন্দার মাঝেও কেন ভারত আলাদা
ইউক্রেন যুদ্ধ, আমেরিকা-চীন বাণিজ্য সংঘাত এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজার এখন স্থবির। যেখানে আমেরিকার প্রবৃদ্ধি ১.৪ শতাংশ এবং ইউরোপের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতের এই সাফল্যের মূল কারণ এর বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তরুণ জনশক্তি। ইউরোপ বা জাপানের মতো দেশগুলো যখন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় জর্জরিত, ভারতের গড় বয়স মাত্র ২৯ বছর, যা উৎপাদন ও ভোগ—উভয় ক্ষেত্রেই দেশটিকে এগিয়ে রাখছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রভাব
জাতিসংঘ ও আইএমএফ-এর মতে, রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়াতেই ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে অনন্য। ২০২৫ সালে বিশ্ববাণিজ্যের গতি ২ শতাংশের নিচে নেমে গেলেও ভারতের স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের নতুন ভরসা জোগাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতেও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও চীনকে পেছনে ফেলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি থাকছে ভারত।
- বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরগুলোতে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ৬.৩ শতাংশের আশেপাশে থাকবে।
- বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তি এবং পরিকাঠামো খাতে বিপুল সরকারি বিনিয়োগই এই সাফল্যের চাবিকাঠি।
- বৈশ্বিক মন্দা ও বাণিজ্য সংঘাতের মাঝেও ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি অন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
