অনুব্রত নেই তো কী! দুর্গাপুরে স্ট্রং রুমের পাহারায় এবার ‘গুড়-বাতাসা’, ৪ জুনের জন্য তৈরি হচ্ছে ‘পাচন’!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে তৈরি হওয়া গণনা কেন্দ্রের ঠিক ২০০ মিটার দূরেই অস্থায়ী শিবির গড়ে দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন প্রায় ১০০ জন তৃণমূল কর্মী। পান্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পশ্চিম ও পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএমগুলো যেখানে সংরক্ষিত আছে, সেখানে কারচুপির আশঙ্কায় সজাগ দৃষ্টি রাখছেন শাসকদলের কর্মীরা। এই পাহারার মাঝেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সেই বহুচর্চিত ‘গুড়-বাতাসা’ ও ‘পাচন’ দাওয়াই।
রাজনৈতিক কৌশলে অনুব্রত মডেল
তৃণমূল কর্মীদের দাবি, প্রচণ্ড দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং মনোবল চাঙ্গা রাখতে তাঁরা গুড় ও বাতাসা খাচ্ছেন। তবে এই খাবারের পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অনুব্রত মণ্ডল বিরোধীদের রুখতে যে ‘গুড়-বাতাসা’ বা ‘নকুলদানা’ তত্ত্ব দিয়েছিলেন, দুর্গাপুরের কর্মীরা যেন সেই পথেই হাঁটছেন। তাঁরা পথচলতি মানুষকেও এই গুড়-বাতাসা খাওয়াচ্ছেন, যা মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও আধিপত্য জাহির করার একটি প্রতীকী প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাচন দেওয়ার হুঁশিয়ারি ও প্রভাব
শুধুমাত্র গুড়-বাতাসাতেই ক্ষান্ত নন কর্মীরা, ৪ মে অর্থাৎ ফল প্রকাশের দিন বিরোধীদের ‘পাচন’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও শোনা যাচ্ছে তাঁদের মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতেই এই ধরনের শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি যেকোনো সময় ইভিএমে কারচুপি করতে পারে, আর সেই শঙ্কা থেকেই এই কড়া পাহারার ব্যবস্থা। অন্যদিকে, বিরোধীরা বিষয়টিকে শাসকদলের উসকানিমূলক আচরণ হিসেবেই দেখছেন। এই ধরনের মন্তব্য ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কাকে কিছুটা উসকে দিলেও কর্মীরা একে স্রেফ নির্বাচনী উন্মাদনা হিসেবেই দাবি করছেন।
এক ঝলকে
- দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের স্ট্রং রুমের কাছে তৃণমূল কর্মীদের কড়া পাহারা।
- তীব্র গরম ও রাজনৈতিক আবহে কর্মীদের সঙ্গী অনুব্রত মণ্ডলের সেই ‘গুড়-বাতাসা’।
- ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় ১০০ জন কর্মীর পালা করে নজরদারি।
- ৪ মে ফল প্রকাশের দিন বিরোধীদের ‘পাচন’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের।
