ভেঙে পড়ল সেতু, ১৮ কিমি ঘুরপথে যাতায়াত! কোচবিহারে বৃষ্টির তাণ্ডবে চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কোচবিহারের তোর্ষা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বুধবার রাতে ফাঁসিরঘাটের অস্থায়ী সেতুটির একটি বড় অংশ জলের তোড়ে ভেসে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই পথে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কোচবিহারের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষকে এখন যাতায়াতের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও চরম জনদুর্ভোগ
অস্থায়ী এই সেতুটি ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বিকল্প পথ হিসেবে তাঁদের এখন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী এবং নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতে সময় ও খরচ দুই-ই কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে ওই স্থানে একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো করেছেন।
কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির পাকা ধান মাঠেই নুয়ে পড়েছে এবং বহু ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক চাষি আধপাকা ধান কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকরা এখন সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাজারদরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- টানা বৃষ্টিতে তোর্ষা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ফাঁসিরঘাটের অস্থায়ী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- সেতু ভাঙার ফলে সাধারণ মানুষকে প্রায় ১৫-১৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
- প্রবল ঝড়ে ও বৃষ্টিতে ধান এবং ভুট্টা চাষে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ওই এলাকায় দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
