ইভিএম বদলে ফেলার ছক? এসপির গাড়ি তল্লাশির দাবিতে পূর্ব বর্ধমানে ধুন্ধুমার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোট মিটলেও উত্তাপ কমেনি পূর্ব বর্ধমানে। এবার স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্ট্রংরুম চত্বর। তাঁর দাবি, স্ট্রংরুমে ইভিএম সুরক্ষার নামে প্রহসন চলছে এবং এর নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফল প্রকাশের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
বিজেপি প্রার্থীর মূল অভিযোগ হলো স্ট্রংরুমের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে আধাসামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকার কথা, সেখানে কেবল রাজ্য পুলিশের কয়েকজনকে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে স্ট্রংরুমের ভেতরের ও বাইরের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে থাকার অভিযোগ তুলে নজরদারির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সিসিটিভি বিকল থাকা কোনো বড়সড় কারচুপির পূর্বপ্রস্তুতি কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সন্দেহের তালিকায় পুলিশ সুপারের গাড়ি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের গতিবিধি। সঞ্জয় দাসের দাবি, জেলা এসপি একাধিক গাড়ি নিয়ে বারবার স্ট্রংরুম চত্বরে যাতায়াত করছেন। উচ্চপদস্থ এই পুলিশ আধিকারিকের ঘনঘন গতিবিধিকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তাঁর গাড়ি তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর আশঙ্কা, পুলিশি পাহারার আড়ালে ইভিএম বদল বা অন্য কোনো অসাধু উপায়ে গণনায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
এই সংঘাতের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও সিসিটিভি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত অভিযোগ জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের খতিয়ে দেখতে হবে। স্ট্রংরুমের এই ‘নিরাপত্তা ছিদ্র’ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
এক ঝলকে
- স্ট্রংরুমে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানে উত্তেজনা।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি ও সিসিটিভি বিকল থাকার বিস্ফোরক দাবি বিজেপি প্রার্থীর।
- সন্দেহের জেরে জেলা পুলিশ সুপারের গাড়ি তল্লাশির দাবি তোলা হয়েছে।
- নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের জেরে ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ।
