ভোট মিটতেই অ্যাকশনে পুলিশ কমিশনার! অশান্তি রুখতে দিলেন ৮ দফা ‘দাওয়াই’, কী কী আছে তালিকায়?

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও রাজনৈতিক সংঘাত দমনে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে ঘটে যাওয়া সংঘাতের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের সব থানাকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা। মূলত ভোট গণনা পরবর্তী সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অশান্তি দমনে পুলিশের কঠোর দাওয়াই
নগরপাল অজয় কুমার নন্দা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শান্তিভঙ্গের কোনো চেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। এই লক্ষ্যে ৮ দফার একটি বিশেষ গাইডলাইন বা দাওয়াই দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) রুট মার্চ অব্যাহত রাখা এবং পুলিশের নজরদারি দ্বিগুণ করা। কোনো এলাকায় গণ্ডগোল হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-সহ দায়িত্বরত অফিসারদের জবাবদিহি করতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে পুলিশি টহলদারির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন কমিশনার।
অভিজ্ঞতা ও আগাম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি
বিগত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না লালবাজার। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক্সিট পোল এবং তার পরবর্তী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ কমিশনার বাহিনীর পেশাদারিত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বাইরে থেকে আসা দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে এবং স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রুখতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের ৮ দফার কঠোর নির্দেশিকা।
- সংবেদনশীল এলাকায় সিএপিএফ-এর রুট মার্চ এবং নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ।
- অশান্তি মোকাবিলায় গাফিলতি থাকলে থানার ওসিদের সরাসরি জবাবদিহিতার বিধান।
- দুষ্কৃতী দমনে প্রয়োজনে দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত।
