মুখ্যমন্ত্রী পদে কি তবে খাড়্গে? কর্নাটকে সিদ্দারামাইয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বয়ান কংগ্রেস সভাপতির!

কর্নাটকের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে চলা দীর্ঘকালীন টানাপোড়েনের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়েই সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, আপাতত তাতে জল ঢেলেছেন তিনি। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ স্থায়ী হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা মেলেনি। উল্টো ৮৫ বছর বয়সি খাড়্গে নিজের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখে জানিয়েছেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী।
নেতৃত্বের কোন্দল ও দিল্লি যাত্রা
রাজ্য রাজনীতিতে সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের শিবিরের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াই এখন তুঙ্গে। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার সময় আড়াই বছর পর পর পদ ছেড়ে দেওয়ার একটি অলিখিত চুক্তি ছিল বলে দাবি করে আসছে শিবকুমার গোষ্ঠী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্দারামাইয়ার অনুগামী প্রায় ৪০ জন বিধায়ক দিল্লি গিয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সিদ্দারামাইয়ার ওপর চাপ বাড়াতে বিরোধী পক্ষও হাইকমান্ডের কাছে গুচ্ছ অভিযোগ জমা দিয়েছে।
পরিবর্তনের মেঘ ঘনীভূত হওয়ার কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নাটকে এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে আগামী বিধানসভা নির্বাচন এবং কেরলের নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল। কেরলে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই কর্নাটকের প্রশাসনে বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রভাবশালী নেতা কে এন রাজান্নার সাম্প্রতিক মন্তব্যে সিদ্দারামাইয়ার ‘অসহায়’ অবস্থা ফুটে উঠেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় ঝুলে আছে দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের প্রশাসনিক ভাগ্য।
এক ঝলকে
- আপাতত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন সিদ্দারামাইয়া, জল্পনা ওড়ালেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
- নিজের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কংগ্রেস সভাপতি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার হাই কমান্ডের ওপর।
- সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার শিবিরের মধ্যকার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
- পরিস্থিতি বুঝতে এবং নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে ৪০ জন বিধায়কের দিল্লি সফরের কর্মসূচি।
