“ইরান এখন পুরোপুরি নিঃশেষ, চুক্তির জন্য ছটফট করছে তেহরান!” চাঞ্চল্যকর দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ধারাবাহিক সামরিক অভিযান ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে ইরান বর্তমানে চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখন নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা রুখতে ওয়াশিংটন যে অনড় অবস্থানে রয়েছে, এই বক্তব্য তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া দেশটির ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ৮২ শতাংশ এবং মিসাইল তৈরির কারখানার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিও পতনের দ্বারপ্রান্তে, কারণ তেল রপ্তানি বন্ধে আমেরিকার কঠোর নাকেবন্দি সরাসরি ইরানের রাজস্ব আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও নেতৃত্ব সংকট
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে এক ধরনের নেতৃত্ব সংকট বিরাজ করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, বর্তমানে সেখানে ঠিক কার হাতে ক্ষমতা রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলো, যারা ঐতিহাসিকভাবে ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে হচ্ছে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা এখন সমঝোতা করতে চায়।
- মার্কিন অভিযানে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল উৎপাদন সক্ষমতা যথাক্রমে ৮২ ও ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- তেহরানের তেল বিক্রির পথ বন্ধ করতে কঠোর নাকেবন্দি জারি রেখেছে ওয়াশিংটন।
- ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
