১১১ বছর পর ফিরছে সেই রাজকীয় মেজাজ! দার্জিলিঙের পাহাড়ে এবার গ্লাসগোর হেরিটেজ ইঞ্জিনের গর্জন— রইল ভিডিও

১১১ বছর পর ফিরছে সেই রাজকীয় মেজাজ! দার্জিলিঙের পাহাড়ে এবার গ্লাসগোর হেরিটেজ ইঞ্জিনের গর্জন— রইল ভিডিও

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন পালক। ১৯১৫ সালে ইংল্যান্ডের গ্লাসগোতে তৈরি হওয়া একটি ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন দীর্ঘ সংস্কারের পর ফের পাহাড়ের ট্র্যাকে ফিরছে। প্রায় ৯৭ বছর অকেজো হয়ে পড়ে থাকার পর আসামের নিউ বনগাইগাঁও এবং পাহাড়ের তিনধারিয়া ওয়ার্কশপের কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ১৬ টনের বিস্ময়টিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। মূলত পর্যটকদের জন্য আয়োজিত বিশেষ ‘জয় রাইড’-এ ব্যবহার করা হবে এই হেরিটেজ ইঞ্জিনটিকে।

ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

পুরনো নকশা অনুযায়ী তৈরি করা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি এই ইঞ্জিনে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু আধুনিক বৈশিষ্ট্য। পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ দিতে এতে থাকছে কৃত্রিম ধোঁয়ার সিমুলেশন এবং বাষ্পীয় ইঞ্জিনের সেই চিরচেনা গম্ভীর শব্দ। রাতের পাহাড়কে আলোকিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে ডায়নামিক লাইটিং। সম্প্রতি তিনধারিয়া থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত এই ইঞ্জিনের সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে, যা পাহাড়ি পথে যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পুরনো সম্পদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রেল কর্তৃপক্ষ কেবল একটি ইঞ্জিন নয়, বরং ডিএইচআর-এর ভাণ্ডারে থাকা আরও বেশ কিছু পুরনো সম্পদ ফিরিয়ে আনছে। এর মধ্যে ১৮৮১ সালে তৈরি ঐতিহাসিক ‘৭৭৭-বি’ ইঞ্জিনটিও রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় দিল্লির মিউজিয়ামে থাকার পর পুনরায় পাহাড়ে ফিরেছে। এছাড়া গত বছর বেঙ্গালুরু থেকে দুটি ডিজেল লোকোমোটিভ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ১৪টি হেরিটেজ কামরাকে নতুন রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের আধুনিকীকরণ পর্যটন শিল্পে নতুন জোয়ার আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ইংল্যান্ডের গ্লাসগোতে ১৯১৫ সালে তৈরি ১৬ টনের ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিনটি দীর্ঘ ৯৭ বছর পর সচল করা হয়েছে।
  • ইঞ্জিনে ঐতিহ্যের পাশাপাশি ডায়নামিক লাইটিং ও কৃত্রিম ধোঁয়ার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।
  • তিনধারিয়া থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত সফল ট্রায়াল রান শেষে এটি এখন পর্যটকদের ‘জয় রাইড’-এর জন্য প্রস্তুত।
  • এই উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায় গতি আসবে এবং হেরিটেজ রেলের গরিমা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *