বঙ্গ রাজনীতিতে মহাপ্রলয়! ১০% ভোট বাড়লেই কি নবান্ন হারাচ্ছেন মমতা? সামনে এল বিস্ফোরক সমীক্ষা

বঙ্গ রাজনীতিতে মহাপ্রলয়! ১০% ভোট বাড়লেই কি নবান্ন হারাচ্ছেন মমতা? সামনে এল বিস্ফোরক সমীক্ষা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি শীর্ষস্থানীয় সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্ট রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট ব্যাংক এক লাফে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত ৩৮ শতাংশ ভোট থেকে বেড়ে এটি ৪৮ শতাংশে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা এক প্রকার আসাম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

কেন এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে মূলত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্দেশখালির মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নারী ভোটারদের একাংশের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বক্সে পড়তে পারে। এছাড়া নিয়োগ দুর্নীতি এবং বেকারত্ব ইস্যু যুব ভোটারদের শাসক শিবিরের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে মেরুকরণের স্পষ্ট প্রবণতা বিজেপির ভোট বৃদ্ধির সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ক্ষমতার সমীকরণ ও নীরব ঢেউ

১০ শতাংশ ভোটের এই বড় ব্যবধান বিজেপিকে অনায়াসেই ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ পার করিয়ে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে বর্তমানে এক ধরণের ‘নীরব ঢেউ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ খুঁজছেন। যদি বিজেপি ৪৮ শতাংশ ভোট অর্জন করতে সফল হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১০০-র নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও শাসকদল মনে করে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তৃণমূলের দুর্ভেদ্য জনভিত্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

এক ঝলকে

  • রাজ্যে বিজেপির ভোট শেয়ার ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস।
  • ১০ শতাংশের এই বৃদ্ধি তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১০০-র নিচে নামিয়ে আনতে পারে।
  • নারী নিরাপত্তা, নিয়োগ দুর্নীতি ও বেকারত্ব পরিবর্তনের মূল নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত।
  • ৪ মে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট করবে এই সমীক্ষার সত্যতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *