ভোটগণনায় শুধুই কেন্দ্রীয় কর্মী কেন? হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাল। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে বিশেষ মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের জারি করা একটি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই শাসকদলের এই পদক্ষেপ। কলকাতা হাইকোর্টে তাদের আবেদন খারিজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলো ঘাসফুল শিবির।
নিরপেক্ষতা নিয়ে সংঘাত
তৃণমূল কংগ্রেসের মূল অভিযোগ, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করলে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের দাবি, কেন্দ্রের শাসকদলের অধীনে থাকা কর্মীরা প্রভাবিত হতে পারেন, যা গণনার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছিল যে, গণনার টেবিলে অন্তত একজন কেন্দ্রীয় কর্মী রাখার সিদ্ধান্তে কোনো আইনি ত্রুটি নেই এবং এটি কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই এখন সুপ্রিম লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল।
কমিশনের অবস্থান ও প্রভাব
নির্বাচন কমিশন অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। কমিশনের মতে, ২৯৪টি আসনেই ভোটগণনা প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখতেই এই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে ভোটগণনার আগে এই আইনি লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সুপ্রিম কোর্ট এই পদ্ধতিতে কোনো বদল আনে, তবে গোটা গণনা প্রক্রিয়ার বিন্যাস নতুন করে সাজাতে হবে। অন্যথায়, কেন্দ্রীয় নজরদারিতেই সম্পন্ন হবে বাংলার ভাগ্যনির্ধারণী এই গণনা।
এক ঝলকে
- ভোটগণনায় কেন্দ্রীয় ও PSU কর্মীদের সুপারভাইজার নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল তৃণমূল।
- কলকাতা হাইকোর্ট কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করে তৃণমূলের আর্জি খারিজ করেছিল।
- তৃণমূলের দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাদ দিয়ে শুধু কেন্দ্রীয় কর্মীদের রাখা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
- আগামী ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
