গণনাকেন্দ্রে ১৪৪ ধারার বদলে ১৬৩ ধারা! কড়া পুলিশি পাহাড়ায় স্ট্রংরুম

কলকাতার ভোট গণনাকেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশের আওতাধীন সব গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুম সংলগ্ন ২০০ মিটার এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সভা কিংবা কোনো ধরনের উত্তেজনামূলক জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় যেন কোনো রকম ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপ
পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যে পাথর, ইট বা অন্য কোনো ক্ষতিকর বস্তু বহন করা যাবে না। এমনকি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নেই এমন কোনো সরঞ্জামও ওই এলাকায় আনা নিষিদ্ধ। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ডিউটিরত পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
আশঙ্কা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ইভিএম ট্যাম্পারিং বা কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে প্রার্থীদের অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে দীর্ঘ উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ প্রশাসনকে এই কড়াকড়িতে বাধ্য করেছে। ভোট গণনার আগে কোনো ধরণের বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
এক ঝলকে
- গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি ও জমায়েত নিষিদ্ধ।
- মিছিল, সভা বা ক্ষতিকর বস্তু বহন করলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
- ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আশঙ্কা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর পদক্ষেপ।
- পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মীরা বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবেন।
