AI-এর কোপে যাবে না চাকরি! চিনা আদালতের ঐতিহাসিক রায়, ভারতেও কি মিলবে সুরক্ষা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অজুহাতে ঢালাও কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটা কো ম্পা নিগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এল চীন ও ভারতের আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। বেইজিং ও হ্যাংঝু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এআই চালিত বট কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না। এই প্রযুক্তি গ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত মাত্র, যা কোনোভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নয়। ফলে এআই-এর দোহাই দিয়ে কর্মী ছাঁটাই করাকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ বা চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সুরক্ষাকবচ হিসেবে ভারতের বিদ্যমান আইন
চীনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে ভারতেও। যদিও ভারতের সংবিধানে এআই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো আইন এখনও বলবৎ হয়নি, তবে বিদ্যমান শ্রম আইন ও ডেটা সুরক্ষা আইন কর্মীদের ঢাল হিসেবে কাজ করছে। দিল্লি ও মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো অ্যালগরিদম একা কোনো মানুষের জীবিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এআই-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে কাউকে ছাঁটাই করতে হলে অবশ্যই একজন মানব ম্যানেজারের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অন্যথায় সেই ছাঁটাই আইনি ভিত্তি হারাবে।
প্রযুক্তি বনাম কর্মসংস্থানের ভারসাম্য
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের শিল্প বিরোধ আইন (১৯৪৭) অনুযায়ী অটোমেশনের কারণে কর্মী ছাঁটাইকে অত্যন্ত কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে ৩০০-এর বেশি কর্মী রয়েছে এমন সংস্থায় ছাঁটাইয়ের জন্য সরকারি অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া প্রস্তাবিত ‘এআই বিল ২০২৫’-এ জোর দেওয়া হয়েছে যে, অটোমেশনের কারণে কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়লে কো ম্পা নিকে সংশ্লিষ্ট কর্মীর দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।
এক ঝলকে
- এআই ব্যবহারের দোহাই দিয়ে কর্মী ছাঁটাইকে অবৈধ ঘোষণা করেছে চীনের আদালত।
- ভারতেও এআই-এর ভিত্তিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি তদারকি বাধ্যতামূলক করার ইঙ্গিত দিয়েছে হাইকোর্ট।
- ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন (DPDP) অনুযায়ী, এআই কেন কাউকে নিম্ন রেটিং দিল তার স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে কর্মীর।
- এআই নীতিমালা লঙ্ঘনে কো ম্পা নিগুলোর জন্য বিশাল অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে নতুন বিলে।
