“হয় চুক্তি করো, নয় ধ্বংসের জন্য তৈরি থাকো!” ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, ইরানের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা আছে—হয় আমেরিকার সঙ্গে একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আসা, নয়তো চরম ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত থাকা। পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে ‘অসন্তোষজনক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। তার এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অনিশ্চয়তায় শান্তি আলোচনা
ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরান একটি সমঝোতায় আসতে চাইলেও তাদের শর্তগুলো সন্তোষজনক নয়। আলোচনার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান নেতৃত্বের মধ্যে সঠিক তালমেল এবং স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। এর আগে শত্রুতা অবসানের কিছুটা আভাস পাওয়া গেলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘চরম ধ্বংস’ করার প্রচ্ছন্ন হুমকি বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব
এই সংঘাতের অর্থনৈতিক দিকটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে বিরোধ মিটে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। বর্তমানে হরমোজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো জাহাজকেই ইরানকে অবৈধ টোল দিতে হবে না। অন্যদিকে, জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি ন্যাটো মিত্রদেরও চাপে ফেলেছেন, যা ওয়াশিংটনের একক সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।
এক ঝলকে
- ইরানকে নতুন ও কঠোর চুক্তিতে আসার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- তেহরানের দেওয়া সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।
- সংঘাত চললে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
- মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা না পেলে আমেরিকা স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
