স্ট্রং রুম কী? কীভাবে পাহারা দেওয়া হয় ইভিএম? কেন ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান না প্রার্থীরা? জেনে নিন নিয়মাবলী

স্ট্রং রুম কী? কীভাবে পাহারা দেওয়া হয় ইভিএম? কেন ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান না প্রার্থীরা? জেনে নিন নিয়মাবলী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতে না হতেই আলোচনায় উঠে এসেছে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে স্ট্রং রুমের সামনে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের অবস্থান ধর্মঘট এবং ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতার কথা জানালেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস যেন কাটছেই না।

দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা ও কঠোর নিয়ম

স্ট্রং রুম মূলত কোনো সাধারণ কক্ষ নয়, বরং এটি একটি উচ্চ-সুরক্ষিত নিয়ন্ত্রিত এলাকা যেখানে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া থেকে গণনা পর্যন্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিনগুলো রাখা হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সাধারণত সরকারি কলেজ বা প্রশাসনিক ভবনের মজবুত কক্ষগুলোকে স্ট্রং রুম হিসেবে নির্বাচন করেন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোট শেষে মেশিনগুলো সিলগালা করে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমে ঢোকানো হয়। এরপর পুরো প্রবেশপথটি ডাবল লক এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়, যার লাইভ ফিড অনেক সময় প্রার্থীদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

অবিশ্বাসের বাতাবরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রি-স্তর বিশিষ্ট পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকলেও মাঝেমধ্যেই প্রশাসনিক সামান্য ত্রুটি বা গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়ের আশঙ্কা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো স্ট্রং রুম নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল রাজ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে মাঝেমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এক ঝলকে

  • ভোট শেষে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিনগুলো উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন ‘স্ট্রং রুমে’ নির্দিষ্ট সিলাগালা অবস্থায় রাখা হয়।
  • স্ট্রং রুমের সুরক্ষায় চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং আধাসামরিক বাহিনীর ত্রি-স্তর বিশিষ্ট প্রহরা থাকে।
  • গণনা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীদের এজেন্টের উপস্থিতিতে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে রুমের সিল খোলা হয়।
  • প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *