ফলোদী সট্টা বাজার অতীত! বাংলার ভোট নিয়ে আমেরিকার ‘পলিমার্কেট’-এ শোরগোল, ওলটপালট সব হিসেব

ফলোদী সট্টা বাজার অতীত! বাংলার ভোট নিয়ে আমেরিকার ‘পলিমার্কেট’-এ শোরগোল, ওলটপালট সব হিসেব

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল কী হবে তা নিয়ে যখন সারা ভারত জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন প্রথাগত দেশীয় জুয়ার বাজার বা ‘সট্টা বাজার’-কে ছাপিয়ে গেছে বিদেশের প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম। এতদিন রাজস্থানের ফালোদি সট্টা বাজারের দিকে সকলের নজর থাকলেও এবার আমেরিকার ‘পলিমার্কেট’ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলার নির্বাচন নিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় দফার ভোটের পর জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে দেখা যাচ্ছে।

বিদেশের বাজারে বিজেপির উত্থান

পলিমার্কেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। সেই সময় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ দেখালেও, দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই সেই চিত্র উল্টে গেছে। বর্তমানে এই বিদেশি প্ল্যাটফর্মে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাবনা নেমে এসেছে ৪৩ শতাংশে। মূলত বড় বিনিয়োগকারী বা ‘হোয়েল ট্রেডার্স’-দের বিশাল অঙ্কের বাজি ধরার কারণেই বিজেপির পাল্লা ভারী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রভাব

বাংলার প্রথম দুই দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটদান আন্তর্জাতিক বাজিকরদের ভাবনার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯১ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়াকে অনেক বিনিয়োগকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও দিল্লির সট্টা বাজার বা ফালোদি এখনও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে, তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চালিত মার্কিন এই প্ল্যাটফর্মের ঝোঁক এখন স্পষ্টত গেরুয়া শিবিরের দিকে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক বাজি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • বাংলার নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার পলিমার্কেটে ৪০ কোটি টাকারও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে।
  • শুরুতে তৃণমূল ফেভারিট থাকলেও বর্তমানে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ দেখাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্ম।
  • ‘কাইরোসহান্টার’-এর মতো বড় বিনিয়োগকারীরা বিজেপির পক্ষে লক্ষাধিক ডলারের বাজি ধরেছেন।
  • প্রথম দুই দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের ওপর ভোটদানকেই সমীকরণ বদলের মূল কারণ মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *