অপারেশন গ্লোবাল হান্ট: দুবাই থেকে সোজা সিবিআই-এর খাঁচায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ কমলেশ!

আন্তর্জাতিক অর্থ জালিয়াতি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে দীর্ঘদিনের ফেরার আসামি কামলেশ পারেখকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ভারতে ফিরিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ১ মে ২০২৬ তারিখে তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্রই সিবিআইয়ের ব্যাংকিং সিকিউরিটি অ্যান্ড ফ্রড সেল (বিএসএফবি) গ্রেফতার করে। ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’-এর আওতায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
জালিয়াতির সুপরিকল্পিত জাল
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, কামলেশ পারেখ এবং তার সহযোগীরা এসবিআই-এর নেতৃত্বাধীন ব্যাংক কনসোর্টিয়াম থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। জালিয়াতির অর্থ পাচারের জন্য তিনি বিদেশে একাধিক শেল কো ম্পা নি বা ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভুয়া রফতানি ও কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়
কামলেশ পারেখের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর ভারত সরকারের অনুরোধে দুবাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, কামলেশকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বিশাল ব্যাংক জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা অন্যান্য রাঘববোয়ালদের নাম এবং পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে। পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ব্যাংক জালিয়াতি ও শত কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে কামলেশ পারেখকে ইউএই থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছে।
- ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে সিবিআই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
- জালিয়াতির অর্থ বিদেশে পাচারের জন্য ইউএই-তে ভুয়া শেল কো ম্পা নি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- ১ মে ২০২৬ তারিখে দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে বিএসএফবি-র কলকাতা শাখা হেফাজতে নেয়।
