ভোট মিটলেও অশান্ত বাংলা: স্ট্রং রুমের পাহারায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী, তুঙ্গে কমিশন বনাম রাজ্য সংঘাত!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের পর জনজীবন শান্ত হওয়ার কথা থাকলেও, রাজ্যে বর্তমানে ইভিএমের নিরাপত্তা এবং গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রং রুমে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তৃণমূলের অনাস্থা ও আইনি লড়াই
ভোট পরবর্তী এই অশান্তির মূলে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি শাসক দলের চরম অনাস্থা। গণনার কাজে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করার কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাদ দিয়ে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা পক্ষপাতদুষ্ট। অন্যদিকে, ভবানীপুরের স্ট্রং রুমের সামনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান বিক্ষোভ প্রমাণ করছে যে, আসন্ন ৪ মে-র ফলাফল নিয়ে স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বিতর্ক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এই উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছে। শাসক দলের অভিযোগ, বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কি না যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তবে অন্য এক পক্ষের দাবি, এবার নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কড়া হাতে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘নির্বাচনী মেকানিজম’ ভেঙে পড়েছে, যার ফলেই এই অস্থিরতা। মূলত কমিশন, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং শাসক দলের ত্রিমুখী সংঘাতই বর্তমান অচলাবস্থার প্রধান কারণ।
এক ঝলকে
- স্ট্রং রুমে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বিক্ষোভ।
- গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ নিয়ে দুই মেরুতে বিভক্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকার প্রবল সম্ভাবনা।
