“হারের ভয়েই কি দিশেহারা মমতা?” সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূলকে তীব্র তোপ বিজেপির!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভোট গণনার নিয়ম নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দায় চাপাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
আদালতে ধাক্কা ও বিজেপির কটাক্ষ
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, তৃণমূল যখনই কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া রুখতে বা বদলাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়, তখনই তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে, গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না। মূলত হারের ভয়েই তারা এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছে বিরোধী শিবির।
অবিশ্বাসের রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের পর্যায় যত বেড়েছে, তৃণমূলের মনোবল ততই ভেঙে পড়েছে। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই শাসকদলের মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন তারা না পারছে নির্বাচন কমিশনকে ভরসা করতে, না পারছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ওপর আস্থা রাখতে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রভাবে জনমানসেও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে স্নায়ুচাপ বেড়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই অনাস্থা ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ।
এক ঝলকে
- গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের আর্জি সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার পর সরব হয়েছে বিজেপি।
- পরাজয়ের আশঙ্কায় শাসকদল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অহেতুক প্রশ্ন তুলছে বলে দাবি সুধাংশু ত্রিবেদীর।
- নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর তৃণমূল আস্থা হারিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও বুথফেরত সমীক্ষার জেরে শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে।
