১ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল থেকে শুধু কি পেট্রোল মেলে? জানুন ১৫৯ লিটার তেলের অবাক করা খতিয়ান!

আধুনিক সভ্যতা ও বিশ্ব অর্থনীতি মূলত দাঁড়িয়ে আছে অপরিশোধিত তেলের ওপর। মাত্র এক ব্যারেল বা ১৫৯ লিটার অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও উপজাত পণ্য পাওয়া যায়, তা এক কথায় বিস্ময়কর। শোধনাগারে আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় উত্তপ্ত করার পর এই তেলের উপাদানগুলো আলাদা হয়ে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে পরিবহণ থেকে শুরু করে ওষুধ শিল্প—সবক্ষেত্রেই খনিজ তেলের প্রভাব অপরিসীম।
জ্বালানি থেকে প্লাস্টিক তৈরির রসদ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক ব্যারেল তেল থেকে সবথেকে বেশি উৎপাদিত হয় গ্যাসোলিন বা পেট্রোল, যার পরিমাণ প্রায় ৪২ শতাংশ। এর পরেই ২৭ শতাংশ দখল করে আছে ডিজেল। বিমান চলাচলের জন্য অপরিহার্য জেট ফুয়েল পাওয়া যায় ১০ শতাংশ এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি আসে ৪ শতাংশ। তবে শুধু জ্বালানি নয়, প্লাস্টিক ও ওষুধ তৈরির প্রধান কাঁচামাল বা পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টক পাওয়া যায় ৭ শতাংশ। এছাড়া রাস্তা তৈরির আলকাতরা বা অ্যাসফল্ট এবং যন্ত্রাংশের লুব্রিক্যান্টও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তৈরি হয়।
বাজার বিন্যাস ও বণ্টন ব্যবস্থা
রিলায়েন্স বা ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো বড় শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের পর তা পাইপলাইন, ট্যাঙ্কার ও ট্রাকের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও চাহিদা এই বণ্টনে বড় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য শক্তির জোয়ার এলেও, রাসায়নিক শিল্পের ভিত্তি হিসেবে এবং ভারী জ্বালানি সরবরাহে অপরিশোধিত তেলের গুরুত্ব আজও অনস্বীকার্য।
এক ঝলকে
- ১ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে মোট ৪২ গ্যালন বা ১৫৯ লিটার তরল থাকে।
- পরিশোধনের পর সর্বোচ্চ ৪২% পেট্রোল এবং ২৭% ডিজেল উৎপাদিত হয়।
- জ্বালানি ছাড়াও ওষুধ, প্লাস্টিক এবং রাস্তা তৈরির কাঁচামাল এখান থেকে পাওয়া যায়।
- আংশিক পাতন পদ্ধতিতে বিভিন্ন তাপমাত্রায় ফুটিয়ে তেলের উপাদানগুলো আলাদা করা হয়।
