স্যাটেলাইট নয়, সমুদ্রের গভীরই ইন্টারনেটের আসল প্রাণ! জানুন কীভাবে আপনার স্মার্টফোনে পৌঁছায় ডেটা

স্যাটেলাইট নয়, সমুদ্রের গভীরই ইন্টারনেটের আসল প্রাণ! জানুন কীভাবে আপনার স্মার্টফোনে পৌঁছায় ডেটা

সাধারণ মানুষের ধারণা ইন্টারনেট মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আসলে আদান-প্রদান করা হয় সমুদ্রের তলদেশে বিছিয়ে রাখা বিশাল সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। মহাদেশ থেকে মহাদেশে আলোর গতিতে ডেটা পৌঁছে দিতে এই ফাইবার অপটিক প্রযুক্তিই আধুনিক সভ্যতার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।

কেন বেছে নেওয়া হয় সমুদ্রের তলদেশ

স্থলে বিভিন্ন নির্মাণকাজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বা যানবাহনের চাপে ইন্টারনেট কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর বিপরীতে সমুদ্রের তলদেশ অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ। এছাড়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষেত্রে মাটির ওপরের চেয়ে জলর নিচ দিয়ে কেবল সংযোগ স্থাপন করা অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী। এই পদ্ধতিতে সরাসরি সংযোগ সম্ভব হওয়ায় ডেটা স্থানান্তরের গতিও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

প্রযুক্তির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা

এই কেবলগুলো সাধারণ তারের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত এবং কয়েক স্তরের সুরক্ষায় আবৃত থাকে। ফাইবার অপটিক্যাল কোরের ওপর স্টিল, তামা এবং বিশেষ জেল কোটিং ব্যবহার করা হয় যাতে নোনা জল বা গভীর সমুদ্রের প্রচণ্ড চাপ এর ক্ষতি করতে না পারে। স্যাটেলাইটের তুলনায় এই পদ্ধতিতে ‘ল্যাটেন্সি’ বা ডেটা পৌঁছানোর বিলম্ব অনেক কম হয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বিশ্বের ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ডেটা সমুদ্রের নিচের সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
  • স্থলের চেয়ে সমুদ্রের তলদেশ অনেক বেশি স্থিতিশীল হওয়ায় এটি কেবল স্থাপনের জন্য নিরাপদ।
  • ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আলোর সংকেত হিসেবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা হয়।
  • মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় এই তারগুলো সমুদ্রের নোনা জল ও উচ্চচাপ সহ্য করতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *