ভোট গণনার আগে উত্তপ্ত বিধাননগর! স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র এলাকা

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগের রাতে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বিধাননগরে। স্ট্রংরুমের বাইরে ক্যাম্প অফিসের তাঁবু খাটানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ঘিরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিহাতে আসরে নামতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
তাঁবু বিতর্ক ও পতাকা ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত
অশান্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্ট্রংরুমের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস। বিজেপির অভিযোগ, তাদের তৈরি করা তাঁবুতে জোরপূর্বক নিজেদের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, স্ট্রংরুমের বাইরে কাদের তাঁবু কোথায় থাকবে, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। এই বাগ্বিতণ্ডা থেকেই দু’পক্ষের কর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করেন এবং গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক চাপানউতর
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা মাইকিং শুরু করেন এবং জমায়েত হঠাতে সক্রিয় হন। তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, অশান্তি থামাতে তিনি উদ্যোগী হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপিও; তাদের দাবি, হারের ভয়েই তৃণমূল এখন মরিয়া হয়ে বিজেপির ক্যাম্পে পতাকা লাগানোর মতো কাজ করছে। বিধাননগরের এই স্ট্রংরুমে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে দু’পক্ষই চরম সতর্ক।
স্ট্রংরুম ঘিরে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ
বিধাননগরের পাশাপাশি ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলেও গত কয়েকদিন ধরে স্ট্রংরুম পাহারাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র স্নায়ুর লড়াই চলছে। সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হওয়া বা সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়েছে বারাসত থেকে কলকাতা। এই উত্তেজনার আবহেই আজ সকাল থেকে রাজ্যের সমস্ত স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসার ডাক দিয়েছে বিজেপির মহিলা মোর্চা, যা গণনার আগে রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
