ইভিএম পাহারা নিয়ে রণক্ষেত্র স্ট্রংরুম চত্বর: দিনভর নারীদের বিক্ষোভ, চরম উত্তেজনায় বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | কলকাতা, ৩ মে, ২০২৬
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমগুলোর নিরাপত্তা এবং কারচুপির আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কার্যত মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূলের নারী সমর্থকদের দিনভর অবস্থান এবং রাজনৈতিক চাপানউতরে অনেক জায়গাই এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।
নারীবাহিনীর পাহারা ও তৃণমূলের রণকৌশল
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে ২৪ ঘণ্টার কড়া পাহারা বসিয়েছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে মহিলা সমর্থকদের এই পাহারায় অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে। টিএমসি-র দাবি, ইভিএম বদল বা কারচুপির কোনো সুযোগ যাতে বিরোধীরা না পায়, তার জন্যই এই ‘তৃণমূল স্তরের সতর্কতা’। অনেক জায়গায় তপ্ত রোদের মধ্যেও নারীরা পালা করে রাত জেগে পাহারায় নিযুক্ত রয়েছেন, যা আদতে বিরোধী শিবিরের ওপর একটি জোরালো রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজেপির পাল্টা অবস্থান ও সংঘাত
তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে নাটুকেপনা বলে অভিহিত করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসক দল এখন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। উল্টে বিজেপির অভিযোগ, স্ট্রংরুমের বাইরে জটলা পাকিয়ে তৃণমূলের কর্মীরাই আদতে গণনার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের জেরে বিধাননগর, বারাসত এবং কলকাতার একাধিক স্ট্রংরুম চত্বরে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
কেন এই আস্থাহীনতা?
ইভিএম কারচুপির অভিযোগ এবং কোনো কোনো জায়গায় স্ট্রংরুমে ‘অননুমোদিত প্রবেশের’ খবরের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ভোটের ফলের সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হলেও ইভিএম নিয়ে এই অবিশ্বাস দূর হয়নি।
সোমবার ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত এই স্নায়ুর লড়াই এবং স্ট্রংরুম ঘিরে বিক্ষোভ চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এখন বুথ থেকে সরে এসে গণনাকেন্দ্রের প্রবেশপথে আছড়ে পড়েছে, যার মীমাংসা হবে ৪ মে-র ব্যালট বক্সে।
