বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত, ম্যাজিক ফিগারের পথে বিজেপি ও তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনা। সোমবার সকাল থেকে ২৯৩টি আসনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত মিলছে। শুরু থেকেই ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে চলছে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর। তবে প্রাথমিক প্রবণতায় বিজেপি ম্যাজিক ফিগারের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভোটদানের রেকর্ড ও পরিবর্তনের হাওয়া
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ৯২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়ানো ভোটদানের হার। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের ঘরে ফেরা এবং তাঁদের ভোটদান এবারের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়ার প্রধান ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ভোটাররা এবার অত্যন্ত সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ক্ষমতার লড়াইয়ে ইস্যু বনাম জনকল্যাণ
বিজেপির উত্থানের পেছনে প্রধানত ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং নারী সুরক্ষার বিষয়টি কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আরজি কর কাণ্ড ও কসবা ল কলেজের মতো ঘটনাগুলোতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্তের শাসকবিমুখতা গেরুয়া শিবিরের পাল্লা ভারী করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রধান ভরসা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ব্যাপক সাফল্য এবং গ্রামীণ বাংলায় দলের মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি।
প্রাথমিক এই প্রবণতা বজায় থাকলে নবান্নের দখল কার হাতে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল সংশয়। দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল দীর্ঘায়িত হবে নাকি বাংলা দেখবে নতুন কোনো রাজনৈতিক ভোর। তবে লড়াই যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে, তা বর্তমানের ‘কাটে কা টক্কর’ থেকেই পরিষ্কার।
