এক বৃত্ত সম্পন্ন! মেদিনীপুরেই শুরু মেদিনীপুরেই কি শেষ? ১৬-০ ফলাফলের পথে শুভেন্দু

এক বৃত্ত সম্পন্ন! মেদিনীপুরেই শুরু মেদিনীপুরেই কি শেষ? ১৬-০ ফলাফলের পথে শুভেন্দু

তমলুক: বাংলার রাজনীতির যে জেলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান শুরু হয়েছিল, সেই পূর্ব মেদিনীপুরেই এবার চরম বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম-খেজুরি-সিঙ্গুর আন্দোলনের রেশ ধরে যে মাটি একদা মমতার ক্ষমতা দখলের ভিত গড়ে দিয়েছিল, আজ সেই জেলা থেকেই কার্যত মুছে যাওয়ার পথে ঘাসফুল শিবির। ১৬টি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতেই বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তৃণমূলের এই ‘শূন্য’ হওয়ার উপক্রম রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

শুভেন্দুর গড়ে গেরুয়া ঝড়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই সকাল থেকে দাপট বজায় রেখেছে গেরুয়া বাহিনী। বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল এখনও পর্যন্ত কোনো আসনেই লিড নিতে পারেনি। শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশল যে তাঁর নিজের জেলায় অক্ষরে অক্ষরে সফল হয়েছে, গণনার এই ট্রেন্ড তার সবথেকে বড় প্রমাণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু বনাম মমতার এই ‘সম্মানের লড়াইয়ে’ অন্তত নিজের জেলায় আপাতত জয়ী অধিকারী পরিবারের মেজ ছেলে।

উত্থান ও পতনের মহাকাব্য

২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই সময় এই পূর্ব মেদিনীপুরই ছিল তৃণমূলের সবথেকে বড় শক্তির উৎস। আজ ২০ বছর পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যে জেলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাইটার্স বা নবান্নের রাস্তা দেখিয়েছিল, আজ সেই জেলাই তাঁকে খালি হাতে ফেরাতে চলেছে। অনেকেই একে বলছেন ‘এক বৃত্ত সম্পন্ন হওয়া’। অর্থাৎ যেখান থেকে রাজনৈতিক শিখরে পৌঁছানোর লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই মাটির হাতেই এবার চূড়ান্ত পরাজয় লেখা হল।

মর্যাদার লড়াইয়ে কোণঠাসা তৃণমূল

শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে তিনি তৃণমূলকে সাফ করে দেবেন। আজ গণনার গতিপ্রকৃতি সেই দাবির পক্ষেই রায় দিচ্ছে। কাঁথি থেকে তমলুক, হলদিয়া থেকে এগর—সব জায়গাতেই পদ্ম শিবির নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেছে। তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের অনেকেই এখন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বাড়ির পথ ধরেছেন বলে খবর।

যদি বিকেলের দিকেও এই চিত্র অপরিবর্তিত থাকে, তবে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে পূর্ব মেদিনীপুর এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য এই ফলাফল এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *