শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের জয়: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবান্নে গেরুয়া শিবির

আজকের দিনটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক চিরস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াই আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র মাটিতেই তাঁর হাতে গড়া আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। বাংলার ভূমিপুত্র শ্যামাপ্রসাদ ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজকের ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি-র পূর্বসূরি। আজ সেই জনসংঘের জন্মদাতার নিজের রাজ্যে জনতা পার্টির সরকার গড়া এক ঐতিহাসিক বৃত্ত সম্পন্ন করল।
সূচনা থেকে সাফল্যের ইতিহাস
১৯৫২ সালে যখন প্রথম লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল, তখন এই দল সারা দেশে মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল। তার মধ্যে দুটিই ছিল বাংলার মাটি থেকে এবং একটি রাজস্থান থেকে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ দিন বাংলায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতি কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের রহস্যমৃত্যুর পর তাঁর দল এ রাজ্যে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সময়ের রোপণ করা বীজ যে ২০২৬ সালে এসে এমন মহীরুহ হয়ে উঠবে এবং নবান্নের দখল নেবে, তা আজ বাস্তবে পরিণত হল।
ভাবাবেগ ও আদর্শের লড়াই
১৯৮০ সালে ভারতীয় জনসংঘ নতুন নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি হিসেবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—সবার কাছেই পশ্চিমবঙ্গ ছিল এক ভাবাবেগের জায়গা। কারণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন এমন এক বাংলা, যা জাতীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের ধারক হবে। আজ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি সেই স্বপ্নের ‘শ্যামাপ্রসাদের সরকার’ গঠনের পথে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার রাজনীতির এক মৌলিক দিকবদল। যে দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল এ রাজ্যের এক ভূমিপুত্রের হাত ধরে, সেই দলটিই এখন বাংলার শাসনভার পরিচালনা করবে। আজকের জয় তাই বিজেপি কর্মীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, বরং তাঁদের জনকের প্রতি এক যোগ্য শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই পুরনো দপ্তরে আজ দীপাবলির আলো। নবান্নে গেরুয়া আবিরের ওড়াউড়ি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের উত্তরাধিকার অবশেষে তাঁর নিজের মাটিতেই পূর্ণতা পেল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
