এই প্রথম বিজেপি, স্বপ্নপূরণ মোদী-শাহের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল বাংলা। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই প্রথমবার নবান্নের দখল নিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণ করে জনমতের পাল্লা এবার ঝুঁকল পরিবর্তনের দিকেই। ২৯৩টি আসনের ভোট গণনার ট্রেন্ড ও ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
পরিবর্তনের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সাধারণ ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে করা নিরন্তর প্রচার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলেই ভোটারদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটব্যাঙ্কে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের থাবা বসানো পরোক্ষভাবে তৃণমূলের চিরাচরিত ভোট শতাংশে ফাটল ধরিয়েছে।
বাংলার রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব
বিজেপির এই জয় কেবল একটি সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উন্নয়ন’ ও ‘জনকল্যাণমূলক’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপির ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাক মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এই ফলাফলের ফলে আগামী পাঁচ বছর নবান্নের অন্দরমহলে কেন্দ্রীয় শাসক দলের আদর্শগত প্রভাব স্পষ্ট হবে। তবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবং আগামী ২১ মে সেখানে পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত থাকায়, চূড়ান্ত আসন সংখ্যার জন্য সামান্য প্রতীক্ষা করতে হলেও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছে গেরুয়া শিবির।
এই জয় যেমন বিজেপির জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় ধাক্কা। চতুর্থবারের মতো মসনদে ফেরার লড়াইয়ে পরাজয় রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে তৃণমূলের ভুমিকা ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। অন্যদিকে, তরুণ মুখদের নিয়ে লড়া বাম-কংগ্রেস জোট গত নির্বাচনের তুলনায় নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা কিছুটা ফিরে পেলেও, মূল লড়াই শেষ পর্যন্ত দ্বিমুখী মেরুকরণেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
