প্রিয় ছাত্রের হাতেই ফের হারলেন নেত্রী! শুভেন্দুর কাছে ধরাশায়ী মমতা

কলকাতা: রাজনীতির ‘স্কুল টপার’ই শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিলেন তাঁর প্রধান শিক্ষিকাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পাঠশালায় যাঁর হাতেখড়ি, সেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হলেন তৃণমূল নেত্রী। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এর ভবানীপুর—পরপর দু’বার নিজের একদা ‘প্রিয় সৈনিকের’ কাছেই হার মানতে হলো তাঁকে। এই হারের সঙ্গেই বাংলায় কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল তৃণমূলের একাধিপত্য এবং সফল হলো মোদী-শাহ জুটির ‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ’ জয়ের স্বপ্ন।
গুরুকে হারালেন শিষ্য
রাজনৈতিক মহলে বরাবরই বলা হতো, শুভেন্দু অধিকারী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্কুল অফ পলিটিক্স’-এর সবথেকে মেধাবী ছাত্র। তৃণমূলের সংগঠন তৈরি থেকে শুরু করে আন্দোলন—মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। কিন্তু ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং শুভেন্দুকে কোণঠাসা করার চেষ্টার ফলেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই দূরত্বই আজ তৃণমূলের পতনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াল। ভবানীপুর কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু প্রমাণ করে দিলেন, ছাত্র এখন গুরুর থেকেও বড় ‘খেলোয়াড়’।
শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক ও গেরুয়া দাপট
বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশলকেই সবথেকে বেশি নম্বর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
- হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক: বাংলায় হিন্দু ভোটের মেরুকরণ বা কনসলিডেশন সফলভাবে করতে পেরেছেন শুভেন্দু।
- ইকোসিস্টেম ভাঙা: গত দেড় দশকে তৃণমূল যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি করেছিল, তা ভেতর থেকে ভেঙে ফেলতে সফল হয়েছেন তিনি।
- মোদী-শাহের স্বপ্নপূরণ: নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল বাংলাকে গেরুয়া রঙে রাঙানো। শুভেন্দুর হাত ধরেই আজ সেই লক্ষ্য পূরণ হলো।
বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো ভবানীপুরে
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নিজের ক্ষমতা বুঝিয়েছিলেন শুভেন্দু। তবে সেবার মমতা হেরেও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সরাসরি ভবানীপুর অর্থাৎ মমতার খাসতালুকে গিয়ে তাঁকে হারিয়ে শুভেন্দু কার্যত তৃণমূল শাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন। মেদিনীপুরের মাটি থেকে কলকাতার রাজপথ—শুভেন্দুর এই জয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, এটি বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
