টালিগঞ্জে অরূপের পতন, জয়ের কারিগর কি বিজেপি নাকি সিপিএমের ‘ভোট কাটাকাটি’?

রাজ্যের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র টালিগঞ্জে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের বিধায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলানো এই নেতার হার নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হতেই উঠে আসছে এক চমকপ্রদ সমীকরণ। পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর জয়ের নেপথ্যে গেরুয়া ঝড়ের চেয়েও বামেদের ভোট প্রাপ্তি তৃণমূলের জন্য বেশি বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের পাটিগণিতে বামেদের প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী ৮৮ হাজার ৪০৭টি ভোট পেয়ে অরূপ বিশ্বাসকে ৬০১৩ ভোটে পরাজিত করেছেন। অরূপ বিশ্বাস পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৯৪টি ভোট। অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী পার্থ প্রতিম বিশ্বাস একাই ৩০ হাজার ৩৩৫টি ভোট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামেদের এই বড় অঙ্কের ভোট প্রাপ্তিই সরাসরি প্রভাব ফেলেছে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে। বাম প্রার্থীর এই ‘ভোট কাটাকাটি’ না হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের রক্তক্ষরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বামেরা যে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি ভোট টেনেছে, তার সিংহভাগই আসলে শাসকবিরোধী ভোট। এই ভোটগুলো বিজেপির বাক্সে না গিয়ে বামেদের কাছে যাওয়ায় তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কমার বদলে পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। একে ‘নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বামেদের এই ভোট ধরে রাখার ক্ষমতা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে।
শুধুমাত্র টালিগঞ্জ নয়, রাজ্যের একাধিক আসনেই এই একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে বামেদের ভোট শতাংশ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে বা স্থিতিশীল থেকেছে, সেখানেই তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন অথবা পরাজিত হয়েছেন। টালিগঞ্জের এই ফলাফল ভবিষ্যতে তৃণমূলের ভোট কৌশলী ও নেতৃত্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
