শূন্যের গেরো কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাম-কংগ্রেস, মুর্শিদাবাদে চমক হুমায়ুন কবীরের

শূন্যের গেরো কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাম-কংগ্রেস, মুর্শিদাবাদে চমক হুমায়ুন কবীরের

দীর্ঘ পাঁচ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বিধানসভার অন্দরে ফেরার ছাড়পত্র পেল বাম ও কংগ্রেস। একুশের নির্বাচনে শূন্য হাতে ফেরার পর ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফল অ-তৃণমূল এবং অ-বিজেপি শিবিরের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলা এবার রাজ্যের রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গড়ে নজর কেড়েছেন হুমায়ুন কবীর এবং ভাঙড়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন নওশাদ সিদ্দিকী।

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ও বামেদের প্রত্যাবর্তন

এবারের নির্বাচনে এককভাবে লড়ে মালদহ বা উত্তর দিনাজপুরে আশানুরূপ ফল করতে না পারলেও কংগ্রেসের মান রক্ষা করেছে মুর্শিদাবাদ। জেলার ফরাক্কা ও রানিনগর আসনে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। ফরাক্কায় মোতাব শেখ এবং রানিনগরে জুলফিকার আলি হাত চিহ্নে জয়লাভ করে বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, গত পাঁচ বছর ধরে চলা ‘শূন্যের’ কটাক্ষ মুছে দিয়ে ডোমকল আসনটি দখল করেছে সিপিএম। সেখানে জয়ী হয়েছেন মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ভোটব্যাংকের মেরুকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব বাম-কংগ্রেস জোটহীন লড়াইয়েও ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে।

হুমায়ুন ও নওশাদের ব্যক্তিগত কারিশমা

ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল ত্যাগ করে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করা হুমায়ুন কবীর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি নিজেই রেজিনগর এবং নওদা—এই দুই কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে দুটিতেই জয়লাভ করেছেন। দেড়শোর বেশি আসনে প্রার্থী দিলেও কেবল হুমায়ুন কবীরই তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় দলকে জয়ের স্বাদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভাঙড়ে অত্যন্ত হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী শওকত মোল্লাকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকী।

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে এই ৬টি আসন লাভ ছোট ঘটনা মনে হলেও, এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বিধানসভায় বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর উপস্থিতি আগামী দিনে শাসকদলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় তৃণমূলের একাধিপত্যে ফাটল ধরায় আগামী পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *