২০৬ আসনে জয়ী হয়েই ভবানীপুরে বিজেপি; প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদকে বিশেষ সম্মান

২০৬ আসনে জয়ী হয়েই ভবানীপুরে বিজেপি; প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদকে বিশেষ সম্মান

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এল আদর্শগত শিকড়। সোমবার কলকাতার ভবানীপুরে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডে উপস্থিত হয়ে দলের এই তাত্ত্বিক নেতার উত্তরাধিকারকে বিশেষ সম্মান জানান। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের এই আবহকে দলের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষের প্রতি উৎসর্গ করতেই মূলত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনসংঘের গুরুত্ব

বিজেপি নেতৃত্বের এই সফর কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং দলের মূল আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সন্ধিক্ষণে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করতে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৫১ সালে তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছিল ‘ভারতীয় জনসংঘ’, যা বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি। দলীয় নেতৃত্বের মতে, বাংলার মাটিতে এই বিশাল জয় আসলে শ্যামা প্রসাদের সেই ‘অখণ্ড ভারতের’ স্বপ্ন ও তাঁর জাতীয়তাবাদী ভাবনারই ফলশ্রুতি।

নির্বাচনী ফলাফল ও নতুন দিগন্তের হাতছানি

ভারতের নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়ী হয়ে বঙ্গ রাজনীতির ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় বদল ঘটিয়েছে বিজেপি। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে। বাম ও কংগ্রেস কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে।

এই জয়কে ‘সোনার বাংলার নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বাংলার মানুষের অটল আস্থার প্রমাণ এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত বিদ্রোহ। বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই বিপুল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর ‘পূর্ব ভারত নীতি’ এবং উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এই বিজয় কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎকে ‘বিকশিত ভারত’-এর মূল স্রোতে যুক্ত করার পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *