হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘উন্নয়ন মডেলে’ই কুপোকাত বিরোধীরা! উত্তরবঙ্গে পদ্ম শিবিরের বিপুল জয়ের আসল রহস্য ফাঁস
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপির একাধিপত্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাজ্য আসামের উন্নয়নের খতিয়ান এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরব উপস্থিতি এবং তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভৌগোলিক সান্নিধ্য এবং সামাজিক মেলবন্ধনের কারণে আসামের উন্নয়নের এই বার্তা উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।
আসামের উন্নয়ন ও সামাজিক সংযোগের প্রভাব
নির্বাচনী প্রচারে এসে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বারবার আসামের পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের কথা তুলে ধরেছিলেন। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আসামের দীর্ঘ সীমান্ত এবং দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রাত্যহিক যাতায়াত থাকায় সেখানকার পরিবর্তনগুলো এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অজানা ছিল না। আসামের আদলে উত্তরবঙ্গেও উন্নয়নের জোয়ার আনার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা স্থানীয় ভোটারদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নিরিখে প্রতিবেশী রাজ্যের সাফল্যকে বিজেপির শক্তিশালী প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও কৌশলগত সাফল্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের ভোটারদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনার অভিযোগে সরব। এই প্রেক্ষাপটে হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ এবং বিজেপির সাংগঠনিক দক্ষতা একীভূত হয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে সফল হয়েছে। আসামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য থাকায় হিমন্তের আবেদন সরাসরি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছে। ফলে উত্তরবঙ্গে বিজেপির জয়ের রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার পাশাপাশি আসাম সংলগ্ন জেলাগুলোতে পদ্ম শিবিরের জনভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। এই জয় আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে আসামের প্রভাবকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
