বিজয়ীর মুকুটে পালক খুঁজছে বিজেপি, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে আজই হাইভোল্টেজ বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ২০৬টি আসন জিতে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পর এখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, কে বসছেন নবান্নের মসনদে? এই জল্পনার অবসান ঘটাতে আজ মঙ্গলবার কলকাতায় বসছে বিজেপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। যেখানে যোগ দিতে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু কি সবার আগে?
রাজনৈতিক মহলের সব থেকে আলোচিত নাম শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে দলের অভাবনীয় সাফল্যের কারিগর হিসেবে তাঁর নামই সবার উপরে উঠে আসছে। তবে এই পথ খুব একটা মসৃণ নয়। শুভেন্দু অধিকারী আদি বিজেপি নেতা না হওয়ায় দলের অন্দরে একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া তাঁর সাথে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই, যা বিজেপি ও সংঘ পরিবারের সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিলীপ ঘোষ বা শমীক ভট্টাচার্যের মতো পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের নামও আলোচনায় রয়েছে, তবে জনপ্রিয়তার নিরিখে শুভেন্দুই এখন পর্যন্ত এগিয়ে।
দিল্লির নজর ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার ভূমিপুত্রকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়ানোই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার ওপর ভিত্তি করেই রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি হবে।
আজকের বৈঠকের পর চূড়ান্ত নাম ঘোষণা হলে বিজেপি প্রতিনিধি দল সরকার গঠনের দাবি জানাতে লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন। তবে অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় মুখ বনাম দলের আদর্শগত সংহতি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাংলার সিংহাসনে শেষ পর্যন্ত কার অভিষেক ঘটে, এখন সেটাই দেখার।
