বাংলার রায় মেনে নিন মমতা, হিন্দু ভোট ২০ শতাংশ বাড়ার দাবিতে সরব সুকান্ত

বাংলার রায় মেনে নিন মমতা, হিন্দু ভোট ২০ শতাংশ বাড়ার দাবিতে সরব সুকান্ত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনগণের রায়কে আসাম্মান করা তৃণমূলের উচিত নয়। ভোট গণনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সিসিটিভি ট্যাম্পারিং বা কারচুপির অভিযোগ তুলে হারকে অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি শাসকদলকে কড়া বার্তা দেন।

হিন্দু ভোটের সমীকরণ ও গণতান্ত্রিক রায়

সুকান্ত মজুমদারের দাবি অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের হার প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটাররা স্বেচ্ছায় লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন কাউকে ভাড়া করে আনেনি। তাঁর মতে, যারা জনগণের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেই রাজনৈতিক দলের পতন নিশ্চিত। একই নির্বাচন কমিশন কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরিচালনা করলেও কেন কেবল বাংলাতেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেই দ্বিমুখী নীতি নিয়েও তিনি পালটা আক্রমণ শানান।

বিজেপির উত্থান ও দলীয় কর্মীদের আত্মত্যাগ

২০২১ সালের ৭৭টি আসন থেকে লাফিয়ে ২০৬টি আসনে পৌঁছানোকে বিজেপির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সুকান্ত মজুমদার। এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং বাংলার বিজেপি কর্মীদের দীর্ঘ লড়াইকে কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের দীর্ঘ আধিপত্য চূর্ণ করে বিজেপি এখন বাংলার প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অতীতে দলীয় কর্মীদের প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও কর্মীরা গেরুয়া পতাকা আঁকড়ে ধরেছিলেন বলেই আজ এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

হিংসা মুক্ত রাজনীতির আহ্বান

জয়ের পর আনন্দ উদযাপনের নামে কোনো ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপে না জড়ানোর জন্য কর্মীদের সতর্ক করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি সাফ জানান, তৃণমূলের স্টাইলে পার্টি অফিস দখল বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা বিজেপি সমর্থন করে না। বাংলার মানুষ তৃণমূলের জমানার ভয়ের পরিবেশ শেষ করতেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে, তাই কর্মীদের উচিত সংযম বজায় রাখা। যারা আইন অমান্য করবে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দল পাশে দাঁড়াবে না বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *